ঘুম মানুষের জীবনের অন্যতম অপরিহার্য একটি প্রয়োজন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পড়ে মারাত্মক প্রভাব। অনিদ্রা (ইনসোমনিয়া) হলো এমন একটি সমস্যা, যার কারণে কেউ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না কিংবা ঘুম এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ধীরে ধীরে এটি শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষয় করতে শুরু করে। এই প্রবন্ধে আমরা অনিদ্রার কারণ, লক্ষণ, ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিকার নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করব।
অনিদ্রা কী:
অনিদ্রা একটি ঘুমজনিত ব্যাধি, যার ফলে একজন ব্যক্তি পর্যাপ্ত বা গুণগত ঘুম পেতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত, যদি কেউ সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ঘুমে বিঘ্ন অনুভব করে এবং তা ৩ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে তাকে অনিদ্রা বলা হয়। এটি দু’ধরনের হতে পারে:
- প্রাথমিক অনিদ্রা: যখন অনিদ্রার পেছনে কোনো শারীরিক বা মানসিক রোগ থাকে না।
- দ্বিতীয়িক অনিদ্রা: যখন কোনো রোগ বা ওষুধজনিত কারণে ঘুমের সমস্যা হয়।
অনিদ্রার সাধারণ লক্ষণসমূহ:
১. ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগা
অনিদ্রার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো বিছানায় শোয়ার পর ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগা। অনেকে আধা ঘণ্টা থেকে শুরু করে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন না। মন অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, চিন্তা থামে না, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
২. মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া
অনিদ্রাগ্রস্ত ব্যক্তিরা মাঝ রাতে একাধিকবার ঘুম থেকে উঠে পড়েন এবং অনেক সময় আবার ঘুমাতে পারেন না। কখনো-কখনো ঘুমে সামান্য শব্দ বা আলোতেও ঘুম ভেঙে যায়।
৩. ভোরে অস্বাভাবিকভাবে জেগে যাওয়া
অনিদ্রার আরেকটি লক্ষণ হলো খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া, যেমন সকাল ৪টা বা ৫টায় উঠে আর ঘুম না আসা, যদিও এখনো ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।
৪. ঘুমের পরেও বিশ্রাম অনুভব না করা
অনেকেই অভিযোগ করেন যে, তারা সময়মতো ঘুমালেও ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি বা ভার লাগা অনুভব করেন। ঘুম পূর্ণ হলেও তা যেন ফলপ্রসূ বা বিশ্রামদায়ক মনে হয় না।
৫. দিনের বেলায় ক্লান্তি ও অবসাদ
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে সারাদিনে ক্লান্তি, অল্পতেই দুর্বল হয়ে পড়া এবং কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া অনিদ্রার বড় লক্ষণ। এতে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
৬. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস
ঘুমের অভাব মানসিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। অনিদ্রায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সহজেই মনোযোগ হারান, কথা ভুলে যান এবং জটিল চিন্তাধারায় অসুবিধা হয়।
৭. মেজাজ খিটখিটে বা উদ্বিগ্ন হয়ে যাওয়া
অনিদ্রা থেকে মানসিক অস্থিরতা, হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ছোটখাটো বিষয়েও অতিমাত্রায় রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হতাশাজনিত বিষণ্নতায় রূপ নিতে পারে।
৮. ঘুম নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিরা প্রায়শই ঘুম নিয়ে অত্যধিক চিন্তা করেন। তারা ঘুম না আসার আশঙ্কায় শোবার আগেই দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৯. গাড়ি চালাতে বা কাজ করতে অমনোযোগী হওয়া
অনিদ্রার ফলে গাড়ি চালানোর সময় অসতর্কতা, অফিস বা পড়াশোনায় ভুল করে ফেলা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে।
১০. শারীরিক উপসর্গ
দীর্ঘ সময় অনিদ্রায় ভুগলে মাথাব্যথা, চোখ ভারী লাগা, হজমে সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাসের মতো শারীরিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
অনিদ্রার সম্ভাব্য কারণসমূহ:
অনিদ্রার পেছনে নানা ধরনের কারণ কাজ করতে পারে।
১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ অনিদ্রার অন্যতম প্রধান কারণ। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা যেমন পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক টানাপোড়েন, চাকরি সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা বা পড়াশোনার চাপ মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
২. বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন), উদ্বেগজনিত ব্যাধি (anxiety disorder), বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যাগুলোর সঙ্গে অনিদ্রা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
৩. অনিয়মিত জীবনযাপন
অযথা রাত জাগা, প্রতিদিন ঘুমানোর সময় পরিবর্তন, ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খাওয়া, ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণ, কিংবা ঘুমের আগে মোবাইল/কম্পিউটার ব্যবহার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
৪. শারীরিক অসুস্থতা
কিছু শারীরিক রোগ যেমন অ্যাজমা, বাতের ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনজনিত সমস্যা (যেমন থাইরয়েড), গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা বা ক্যান্সার অনিদ্রার কারণ হতে পারে।
৫. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ যেমন স্টিমুল্যান্টস, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, কোর্টিকোস্টেরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যালার্জির ওষুধ অনিদ্রার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
৬. স্নায়ুবিক সমস্যা
পারকিনসন রোগ, আলঝেইমার রোগসহ বিভিন্ন স্নায়ুবিক সমস্যায় ঘুমের ধরণ ব্যাহত হতে পারে।
৭. মদ্যপান ও ধূমপান
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ প্রথমে ঘুম আনলেও পরে তা ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। তেমনি নিকোটিন একটি উত্তেজক উপাদান হওয়ায় ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৮. কর্মঘণ্টা ও শিফট পরিবর্তন
রাত্রিকালীন শিফটে কাজ করা, ঘন ঘন শিফট পরিবর্তন বা দীর্ঘ যাত্রাজনিত সময়ের পার্থক্য (jet lag) দেহঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে বিঘ্ন ঘটায়, যা অনিদ্রার সৃষ্টি করে।
৯. হরমোনগত পরিবর্তন
মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকচক্র, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ ইত্যাদি সময় হরমোনের তারতম্য ঘুমে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় এই পরিবর্তনের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
১০. বয়সজনিত কারণ
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঘুমের ধরনও পরিবর্তিত হয়। প্রবীণরা সাধারণত কম ঘুমান এবং সহজে জেগে ওঠেন, যা কখনো কখনো অনিদ্রার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
১১. অতিরিক্ত চিন্তা ও ওভারথিংকিং
ঘুমাতে যাওয়ার সময় মাথায় অতিরিক্ত চিন্তা ঘোরাফেরা করলে তা মনকে প্রশান্ত হতে দেয় না, ফলে ঘুম আসতে বিলম্ব হয় বা ঘুম ভেঙে যায়।
১২. ঘুমজনিত অন্যান্য রোগ
স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম বা নারকোলেপ্সির মতো ঘুমজনিত অন্যান্য সমস্যাও অনিদ্রার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অনিদ্রার শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব:
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে
ঘুম প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। অনিদ্রার ফলে শরীর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
ঘুমের অভাব রক্তচাপ বাড়ায়, হার্টবিট অস্বাভাবিক করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা
ঘুমের অভাবে ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে।
৪. ওজন বৃদ্ধি
ঘুমের অভাব হরমোনগত ভারসাম্য নষ্ট করে, বিশেষ করে ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তির নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, ফলে ওজন বাড়ে।
৫. হজম ও অন্ত্রের সমস্যা
অনিদ্রা হজমক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে এবং অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অন্ত্রের প্রদাহের কারণও হতে পারে।
৬. ত্বকের ক্ষতি ও বার্ধক্যের লক্ষণ
ঘুম কম হলে ত্বকে কালচে দাগ, বলিরেখা এবং নিষ্প্রাণভাব দেখা দেয়। বার্ধক্যের লক্ষণ দ্রুত প্রকাশ পেতে পারে।
৭. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
ঘুম হরমোন নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত। অনিদ্রা হরমোন চক্রে বিঘ্ন ঘটায়, যার ফলে প্রজনন, চুল পড়া, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৮. ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি
যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা মাইগ্রেনের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অনিদ্রা এসব ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অনিদ্রার মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব:
১. মনোযোগ ও একাগ্রতা হ্রাস
ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা তৈরি করে এবং তথ্য বিশ্লেষণ ও শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
২. স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা
ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনিদ্রার ফলে তথ্য মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং স্মৃতিভ্রংশের সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বৃদ্ধি
ঘুমের অভাব মানসিক স্থিতি নষ্ট করে। মানুষ অল্পতেই রেগে যায়, দুশ্চিন্তা বাড়ে, এবং অস্থিরতা দেখা দেয়।
৪. বিষণ্নতা ও হতাশা
অনিদ্রা ও বিষণ্নতা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দীর্ঘ সময় ঘুম না হলে মানসিকভাবে মানুষ ভেঙে পড়ে, জীবনের প্রতি আগ্রহ হারায়।
৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়
ঘুমের অভাবে যুক্তি-বুদ্ধি ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলভাবে পরিচালিত হয়।
৬. মেজাজ খিটখিটে ও উত্তেজিত হওয়া
ঘুমহীন অবস্থায় মানুষ দ্রুত রেগে যায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না এবং পারিপার্শ্বিকতায় নেতিবাচকভাবে সাড়া দেয়।
৭. সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতা হ্রাস
সঠিক ঘুম না থাকলে মন ও মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা কমে যায়। কাজের প্রতি উৎসাহ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা হ্রাস পায়।৮. আত্মহত্যাপ্রবণতা
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রায় ভোগা অনেক মানুষ আত্মহত্যা বা আত্মঘাতী চিন্তায় আক্রান্ত হয়। বিষণ্নতার সাথে মিলেই এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
অনিদ্রা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়:
অনিদ্রা একটি চিকিত্সাযোগ্য সমস্যা। নিচে কিছু কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো:
১. ঘুমের নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা অভ্যাস করুন। সপ্তাহান্তেও এই রুটিন বজায় রাখুন।
২. ঘুমের আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরিহার
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি বন্ধ করুন। নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়।
৩. শারীরিক ব্যায়াম
প্রতিদিন নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, যোগ ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে ঘুম ভালো হয়। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করাই ভালো।
৪. ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
বিকেলের পর থেকে চা, কফি, কোলা বা অ্যালকোহল না খাওয়াই ভালো।
৫. ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন
ঘর অন্ধকার, ঠান্ডা ও নিরিবিলি রাখুন। হালকা আলো, আরামদায়ক বেড এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ঘুমে সহায়তা করে।
৬. রিল্যাক্সেশন টেকনিক ব্যবহার করুন
মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং, ধ্যান বা হালকা সংগীত শ্রবণ করলে মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম সহজ হয়।
৭. প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
ঘরোয়া উপায়ে কাজ না করলে সাইকিয়াট্রিস্ট বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তারা সঠিক থেরাপি বা ঘুমের ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন।
অনিদ্রা একটি ধীরগতি কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই এটিকে ছোটোখাটো অসুবিধা মনে করে উপেক্ষা করেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘুম নিয়ে অবহেলা না করে এর প্রতিকার খুঁজে বের করা জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত অভ্যাস এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করলেই অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, “ভালো ঘুম মানেই ভালো জীবন”।
…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….
অনিদ্রা সম্পর্কিত ঘনঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: অনিদ্রা বলতে আসলে কী বোঝায়?
উত্তর:
অনিদ্রা হলো একটি ঘুমজনিত সমস্যা, যেখানে কেউ সহজে ঘুমাতে পারে না, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুম অসম্পূর্ণ থাকে। এটি স্বল্পমেয়াদি (কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ) বা দীর্ঘমেয়াদি (এক মাসের বেশি) হতে পারে।
প্রশ্ন ২: অনিদ্রার প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
উত্তর:
অনিদ্রার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো –
-
ঘুম আসতে দেরি হওয়া
-
বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া
-
ভোরে উঠে ঘুমাতে না পারা
-
ক্লান্তি, অবসাদ, এবং মনোযোগের অভাব
-
সারাদিন দুর্বল অনুভব করা
-
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
প্রশ্ন ৩: অনিদ্রা কীভাবে শরীরকে ক্ষতি করে?
উত্তর:
অনিদ্রা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ওজন বৃদ্ধি করে এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্মৃতি ও মনোযোগ দুর্বল করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রশ্ন ৪: অনিদ্রার কারণ কী হতে পারে?
উত্তর:
অনিদ্রার সম্ভাব্য কারণগুলো হলো –
-
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
-
বিষণ্নতা বা মানসিক ব্যাধি
-
অতিরিক্ত মোবাইল/স্ক্রিন ব্যবহার
-
অনিয়মিত ঘুমের রুটিন
-
শরীরের অন্যান্য রোগ
-
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রশ্ন ৫: ঘরোয়া উপায়ে অনিদ্রা দূর করার উপায় কী কী?
উত্তর:
-
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে ও জাগতে চেষ্টা করুন
-
ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি ব্যবহার বন্ধ করুন
-
হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন
-
ঘুমানোর আগে উষ্ণ দুধ পান করুন
-
বেশি ক্যাফেইন (চা-কফি) ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন
-
ঘুমানোর জায়গাটি শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন
প্রশ্ন ৬: কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?
উত্তর:
যদি অনিদ্রা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা হয়, মানসিক চাপ বেড়ে যায় বা শরীর দুর্বল অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৭: অনিদ্রা কি স্থায়ী সমস্যা?
উত্তর:
সবসময় নয়। বেশিরভাগ অনিদ্রা সাময়িক এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে চললে এটি চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।
প্রশ্ন ৮: অনিদ্রা কি শুধু মানসিক কারণে হয়?
উত্তর:
না। যদিও মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা অনিদ্রার অন্যতম বড় কারণ, তবে শারীরিক অসুস্থতা, ঔষধ, জীবনধারা এবং পরিবেশগত কারণেও অনিদ্রা হতে পারে।
প্রশ্ন ৯: ওষুধ ছাড়া কি অনিদ্রা দূর করা সম্ভব?
উত্তর:
অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব। ঘুমের রুটিন তৈরি, ধ্যান, যোগব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্ক্রিন টাইম কমিয়ে ঘরোয়া উপায়ে অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে জটিল ক্ষেত্রে ডাক্তারি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন ১০: শিশুরাও কি অনিদ্রায় ভুগতে পারে?
উত্তর:
হ্যাঁ, শিশুরাও অনিদ্রায় ভুগতে পারে। এটি সাধারণত অতিরিক্ত উত্তেজনা, ভীতিকর স্বপ্ন, পুষ্টির ঘাটতি, বা ঘুমের অনিয়মিত রুটিনের কারণে হতে পারে।
